আলমগীর হোসেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
আজ ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২২,সোমবার বিশ্ব আত্নহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মত বিনিময় সভায় আত্নহত্যার বিভিন্ন কারণ,প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিপার্ট্মেন্টের ক্লাস প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড.তপন কুমার সরকার, প্রক্টর অধ্যাপক ড.উজ্জ্বল কুমার প্রধান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট মোছা আদিবা আক্তার।
মুক্ত এই আলোচনা সভায় প্রথমে ক্লাস প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আত্নহত্যার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরা হয়।পরবর্তীতে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. তপন কুমার সরকার এবং কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট মোছাঃ আদিবা আক্তার আত্নহত্যাকারীর প্রাথমিক লক্ষণ, আত্নহত্যার কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট মোছাঃ আদিবা আক্তার বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান বিশ্ব প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন করে মানুষ আত্নহত্যা করছেন। পারিবারিক কলহ,আর্থিক সমস্যা,প্রেম ঘটিত সমস্যা, মাদকাসক্ত, উচ্চাকাঙ্খা, পরিক্ষায় সেশন জট,পরিশ্রম করেও আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া,চাকরি চ্যুত হওয়া, একাকিত্ব ভোগা, নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা, অনিন্দ্রা,কারো কাছে নিজের মনের কথা খুলে বলতে না পারা, সাইবার বুলিং, ধর্ষণ, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের যৌন নিপীড়ন, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া প্রভৃতি কারণে আত্নহত্যার পরিসংখ্যান বেড়ে যাচ্ছে।আমাদের উচিত উচ্চাকাঙ্খা কমিয়ে সব রকম পরিবেশ-পরিস্থিতিতে নিজেকে উৎফুল্ল রাখা।
সহযোগী অধ্যাপক ড.তপন কুমার সরকার বলেন, আত্নহত্যা মানসিক ব্যাধীর চূড়ান্ত ফলাফল।আত্নহত্যা একটি কলঙ্গ, আত্নহত্যা একটি অভিশাপ।আত্নহত্যা করা এক ধরনের কাপুরুষতা।আত্নহত্যা প্রতিরোধ যোগ্য।আত্নহত্যা প্রতিরোধে ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আত্নহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আত্নহত্যা শব্দটির উপর ফোকাস বাড়াতে হবে।আত্নহত্যা নামক ট্রমা থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে নিজের পছন্দের মানুষগুলোর সাথে চলাফেরা করতে হবে।সব সময় আনমনা না হয়ে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে হবে, আড্ডা দিতে হবে,ঘুরতে যেতে হবে,উচ্চাকাঙ্খা কমিয়ে আত্নসন্তুষ্টি বাড়াতে হবে।আসুন আমরা আত্নহত্যাকে না বলি,নিজে সচেতন হই,নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীকে সচেতন করে তুলি। আত্নহত্যা প্রতিরোধে এগিয়ে আসে।
