এস কে অজিবর রহমান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি নিউজ টাইম বিডি॥
আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মরা শিশু গাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ। এ গাছের আশেপাশে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ এর হাই ভোল্টেজ তার। এসব মৃত গাছ পথচারী ও যানবাহন চালকদেরকে মৃত্যুর কবলে রেখে বছরের পর বছর খাড়িয়ে থাকলেও প্রতিকারের জন্য কারো মাথা ব্যথা না থাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক স্থানে গাছ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি ও অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক না নড়ায় মানুষ কর্তাব্যক্তিদের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘূরে দেখাগেছে, কুল্যার মোড় থেকে দরগাহপুর সড়ক, মানিকখালী ব্রীজ হতে বড়দল বাজার সড়ক, আশাশুনি উপজেলা প্রধান সড়ক ও পুরাতন ফেরিঘাটগামী সড়ক, বুধহাটা টু শোভনালী সড়ক, বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অসংখ্য গাছগাছালি মারা গেছে। এসব গাছ শুকনো ডাল নিয়ে বছরের পর বছর মৃত্যুর বিপদ সংকেত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে মধ্যে ছোট খাট বা বড় ডাল ভেঙ্গে দোকানপাট, স্থাপনা, যানবাহন ও পথচারীকে চরম বিপদে ফেলছে। সামান্য বাতাস বা ঝড় বৃষ্টিতেই এসব মরা গাছের ডালপালা ভেঙে পড়বে রাস্তার উপর। ইতিপূর্বে মরা গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে ঘটেছে ছোট খাটো দুর্ঘটনা। আর এসব গাছের ডাল কারেন্টের তারে পড়ার আশঙ্কা তো আছেই। এ ধরনের বিপদের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে দিনরাত ব্যাস্ততম এসব সড়ক দিয়ে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনসাধারনকে যাতায়াত করতে হয়। তবে এ মরা গাছগুলো দ্বারা সড়কের দু’পাশের বসতবাড়িসহ বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা বিদ্যামান। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি হলে সম্পূর্ণ গাছ ভেঙে পড়ার সম্ভবনাও রয়েছে। সৌন্দর্য্য বর্ধন এবং প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষার জন্য লাগানো গাছগুলো এখন যেন জনসাধারণের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। এ মরা গাছগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে দিলে একদিকে সরকার রাজস্ব পাবে। অপরদিকে, জনসাধারন দূর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পাবে। এসব ঘটনার স্বচিত্র প্রতিবেদন দৈনিক দৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে ছাপানো বা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কেন জানিনা কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ করেন না। অনেক ভুক্তভোগিরা আক্ষেপ করে বলে থাকেন, কর্তা ব্যক্তিদের কাছে কি এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য নেই। কেন গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়না। কেন প্রতিকারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। কিছুদিন পূর্বে বাধ্য হয়ে বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান ফকরাবাদ প্রাইমারী স্কুলের সামনে থেকে কয়েকটি গাছ কেটে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের প্রাণ রক্ষার কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ মোড়ে সড়কের উপরে শুকনো গাছের ডাল পড়ে ভ্যান চালক ও পথচারীদের জীবন শেষ করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে ডালটি বিদ্যুতের তার ও ডিশ লাইনের তারের উপর পড়ে একটু সরে যাওয়ায় এযাত্রা তাদের প্রাণ রক্ষা পায়। তাই দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে এসব মরা গাছ দ্বারা চলমান দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ হ্রাসে এসকল গাছ জরুরী ভিত্তিতে কর্তনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বন বিভাগের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলে জানাগেছে, মরা গাছগুলোর কারণে দূর্ঘটনা বৃদ্ধি ও দুর্ভোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীরা আমাদেরকে জানান। মূলত গাছগুলি অপসারণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
