মোঃ নাজমুল হক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজে তৌহিদুল ইসলাম (১৩ তম ব্যাচ) নামের এক নার্সিং শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের পরে ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে,তৌহিদুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করেন ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আল আমিন আকন্দ অপূর্ব ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল মিয়া। তারা দুজনেই ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের হোস্টেলের সিট বাতিল করেছে।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা এতে সন্তুষ্ট নন। গতকাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এ অবস্থায় ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে।
৬ দফা দাবিসমূহঃ
১। নির্যাতনকারীদের আজীবন ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।
২। নির্যাতনকারীদের হোস্টেল এর সিট বাতিল করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নির্যাতিত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার নির্যাতনকারীদের বহন করতে হবে।
৪। কলেজ প্রশাসনকে উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫। কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেলে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শারীরিক,মানসিক নির্যাতন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।
৬। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, ছাত্রী নিবাসের ভিতরে গিয়ে মেয়েদের রুমে প্রবেশ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য ভয় ভীতি দেখানো, এমনকি রুমে ডেকে নিয়ে জীবন নাশের হুমকি ও মারপিট করা, কলেজের সিনিয়র শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, এসোসিয়েশন ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে আল আমিন ও সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আল আমিন ও সোহেল মিয়ার অসৎ কার্যকলাপে সহযোগিতা না করায় ডাইনিং রুম থেকে খেয়ে রুমে ফেরার সময় তৌহিদুল ইসলামকে আল আমিন ও সোহেল জোর-জবরদস্তি করে তাদের রুমে নিয়ে অবরুদ্ধ করে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে নির্মমভাবে মারধরের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা করে।
পরবর্তীতে ১১তম ব্যাচের অন্য একজন শিক্ষার্থী ঘটনা জানার পর ফ্লোরের দরজা খুলে দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গিয়ে সন্ত্রাসী ছাত্রদ্বয়ের হাত থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়।
