এস কে অজিবর রহমান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি নিউজ টাইম বিডি।।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট জনাব মোঃ বেলায়েত হোসেন ও তার সহধর্মিণী। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার পি,বি,আই জনাব মীর মোঃ শাফিন মাহমুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) এর সভানেত্রী মিসেস নাদিয়া আফরোজ সহ পুনাকের অন্যান্য সভাসদ। আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সজীব খান (প্রশাসন ও অর্থ) মহোদয় সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) মহোদয় কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মৃতি স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব কনক কুমার দাস (ক্রাইম এন্ড অপস্)
মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) গত ২৭/০৭/২০১৯খ্রিঃ তারিখ সাতক্ষীরা জেলা সুপার সাতক্ষীরা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন। তিনি এমন এক সময় পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন যখন বিশ্বব্যাপী তথা বাংলাদেশ করোনা মাহমারির ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা হিসাবে যোগদান করে কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেন। করোনা আক্রান্ত রোগীকে তাৎক্ষণিক ভাবে চিকিৎসার দেয়ার জন্য পুলিশ লাইন্সে করোনা কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে যানবাহনসহ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখেন। করোনা মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন কঠোর ভাবে কার্যকর করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা সীমান্তে চেকপোস্ট বসান। বিদেশ থেকে সাতক্ষীরাতে আসা নাগরিকদের যথাযথ ভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, জনগনের মাঝে মাক্স বিতরণ, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাইকিং করা, লিফটলেট বিতরণ, করোনায় আক্রান্ত পরিবারের মনোবল বৃদ্ধি করার জন্য তাদেরকে সহযোগিতা করা, আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা, করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে দাফনের ব্যবস্থা করা, লকডাউনের কারনেকর্মহীন শ্রামজীবি মানুষকে খুজে বের করে তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা এবং সরকারি ত্রাণ জনগনের মাঝে যাতে
সঠিক ভাবে বিতরণ হয় সেই লক্ষে গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার সহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহন করেন।
সুপার সাইক্লোন আমফান ২০/০৫/২০২০ খ্রিঃ তারিখ ১৮.০০ ঘটিকার সময় সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানে এবং ২১/০৫/২০২০খ্রিঃ তারিখ রাত্র ০৩.১৫ ঘটিকার পর্যন্ত তান্ডব চলে। আমফান এর আঘাতে শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ এলাকার রাস্তাঘাট, গাছ গাছালি, বৈদ্যুতিক খুটি, মোবাইল টাওয়ারের ও বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সাতক্ষীরা সাথে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। তখন পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা মহোদয় নিজে উপস্থিত থেকে পুলিশের ২২টি টিম দিয়ে রাত দিন কাজ করে শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ এলাকার রাস্তাঘাট পরিস্কার, ঘরবাড়ি নির্মান ও দূর্যোগ কবলিত মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন।
সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্বপালন কালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের ফলে পুলিশের প্রতি জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। তিনি অসংখ্য চাঞ্চলকর ঘটনার মূল রহস্য উদ্যাঘাটন করেছেন। সুন্দরবনে সন্ত্রাসী আর বনদস্যুদের অবস্থান দীর্ঘ দিনের। পুলিশ সুপার,সাতক্ষীরার নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় সুন্দরবনে বারবার অভিযানের ফলে এখন বনদস্যু শূন্য সুন্দরবন হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূল, উগ্রমৌলবাদ, জঙ্গীবাদ দমনে সদা তৎপর থাকায় সাতক্ষীরা জেলা এখন সহনশীল,সহযোগিতা আর সম্প্রীতির উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাতক্ষীরা জেলায় কর্মকালীন সময়ে সাতক্ষীরা জেলায় নিয়মিত মামলা রুজু হয় ৮,৭৪৪টি, নিয়মিত মামলায় ১০,৪২৭ জন আসামী এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে ২,৫৯১৮ জন আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপদ্দ করা হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২.৩১৫টি মামলা রুজ হয় এবং ১৬৪৭ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়। মাদক উদ্ধার করা হয় ফেন্সিডিল ১৩,৬৪৩ বোতল, গাঁজা ২৯৯ কেজি ৬২ গ্রাম, ২৬,৪৪৯ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশি মদ ১৭৩ বোতল, বিদেশি মদ ৮০ বোতল, ট্যাপেন্ডাল ট্যাবলেট ৫৩৫ পিচ, প্যাথেডিন ইনজেকশন ৩১ পিচ, এ্যালকোহল ৩৬ বোতল। অস্ত্র আইনে ৩৮টি মামলা রুজু হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
০৪/১০/২০২১ খ্রিঃ তারিখ সাতক্ষীরা জেলায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল গঠন হওয়ার পর পুলিশ সুপার মহোদয় সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের নিকট হতে চুরি, ছিনতায় ও হারিয়ে যাওয়া সর্বমোট-৫০৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হস্তগত হওয়া সর্বমোট-২,৪৯,৫০০/- টাকা উদ্ধার পূর্বক ভুক্তভোগীদের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা সুশাসন এবং মানবিক কর্মকান্ডে কেবল সফল নয়। তিনি সৃষ্টিশীলতার প্রতিমূখও বটে। মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট নির্মান, দ্বিতলা মসজিদ নির্মান, গেষ্ট হাউজ নির্মান ও সৌন্দর্যমন্ডিত ফুল বাগান, রিজার্ভ অফিসের সামনে মিনিপার্ক, সেন্ট্রিপোস্ট নির্মান, পুলিশ লাইন্সে গেটের সৌন্দর্য বর্ধন, পুলিশ লাইন্সে প্যারেড গ্রাউন্ড সংস্কার করেন। তছাড়া অত্র জেলার থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, ক্যাম্প সমূহের সর্ব মোট ৪৪টি বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। এছাড়া তিনি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপ অভিযান উদ্যোগ গ্রহন করেন এবং সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৯৭১ টি তালের চারা রোপন করেন। পুলিশ সুপার মহোদয় সাতক্ষীরা জেলার শান্তি-শৃংখলা সমন্নত রাখা এবং পুলিশিং কাজে অগ্রগতি ও দ্রুততর করার লক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টাস ঢাকা হতে বরাদ্দ আনেন ০৯ টি ডাবল কেবিন, ০১টি এ্যাম্বুলেন্স, ০১ টি প্রিজনার ভ্যান, ০১ টি রেকার, ০১ টি বড় বাস, ০৮ টিমোটরসাইকেল, ০১ টি হাই স্প্রিড বোড। ক্রয় করেন ০১ টি মাইক্রোবাস, ০৩ টি পিকআপ ও অনুদান প্রাপ্ত ০১টি পিকআপ সাতক্ষীরা পুলিশের যানবাহন শাখায় সংযোজন করেন।
পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) মহাদয়ের সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি। তিনি সভাপতি হিসাবে দায়িত্বপালন কালে পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২য় তলা ভবন ও ৪র্থ তলা ভবণ নির্মাণ, স্কুলের চতুপাশে সু-উচ্চ প্রাচীর নির্মান, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, প্রধান ফটক(গেট) সহ শোভা বর্ধন, খেলার মাঠ ভরাট ও ঢালাই রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, আলমারী, ডায়াস টেবিল তৈরি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরন, বিদ্যালয়ের আর্থিক তহবিল সমৃদ্ধ করণ, শিক্ষকদের গ্রাচুয়িটি ফান্ড গঠন, শিক্ষক মন্ডলীর বেতন ভাতাদি বৃদ্ধি করণ, জাতীয় অনুষ্টান গুলো জাকজমকপূর্ণ ভাবে উদযাপনের ব্যবস্থা করণ, মেধাবী ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেন।
মনাবিক পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্ব পালন সকল পর্যায়ের অফিসার ও ফোর্স তাদের প্রাপ্য ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ সুবধা যথাযথ ভাবে ভোগ করছে যা অত্র জেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা তথা সাতক্ষীরা বাসির সেবাই নিয়োজিত তার অধিনস্থ পুলিশসদস্যদের ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৪৬২১টি অর্থ পুরস্কার, ৯৮৪টি জিএস/প্রশংসা পুরস্কার প্রদান করেন। পুলিশের ভাবমুর্তিক্ষুন্ন ও অপেশাদারিত্বের কারনে শান্তি স্বরূপ ২৪৯ জন পুলিশ সদস্যকে লঘু দন্ড প্রদান ও ৯৩ জন পুলিশ সদস্যকে গুরুদন্ড প্রদান করেন।
জনাব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম বার মহোদয় , পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা কর্মের মূল্যায়ন হিসেবেই এত প্রশংসা তিনি কুড়িয়েছেন।আপামর জনসাধারণ সবার কাছেই তিনি প্রিয় মানুষ হতে পেরেছেন বলেই তিনি জেলার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। বদলিজনিত বিদায়ে সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন বিদায়ী অতিথি। জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে কর্মময় জীবনে বিদায়ী অতিথি একজন সৎ, মেধাবী, প্রতিশ্রুতিশীল আগুয়ান, চৌকস, পরিশ্রমী, দক্ষ, গুণী ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন পেশাদার পুলিশ সুপার হিসেবে আলোচিত হন। সহকর্মীরা বিদায়ী অতিথির পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
