খলিলুর রহমান( জীম) ইবি প্রতিনিধিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তন্ময় সাহা টনি, কামরুল হাসান অনিক, আরিফুল ইসলাম খান, রকিবুল ইসলাম, নাইমুর রহমান জয়, বনি আমিন, মৃদুল হাসান রাব্বি, মো: মামুনুর রশিদ, সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো: সরোয়ার জাহান শিশির, মো: মাসুদ রানা লিংকন, হোসাইন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক: মো: জাকির হোসেন, মাইনুল ইসলাম সিদ্দিকী, সোহাগ শেখ, মো: হামিদুর রহমান সহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের কয়েক হাজার নেতা কর্মী।
অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, সত্যের সাথে থেকে মাথা নত না করার যে প্রত্যয় তা আমাদের শিখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করবেন। আমাদের যে স্বাধীনতার আশ্বাস, নিতুন দেশ গড়নের আশ্বাস এটা আমরা পরিপূর্ণ মাত্রায় ভোগ করতে পারব।
অনুষ্ঠানে মাহবুবউল আলম হানিফ এম.পি
বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করার মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলো। এই সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু শূণ্য হাতে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত পোড়ামাটির ভূখণ্ডকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন। একটা বাড়ি যদি পুড়ে যায় আমি জানিনা আপনাদের বাড়ি পোড়ার মতো দূর্ভাগ্য হয়েছিলকিনা। একটা বাড়ি যদি আগুনে পুড়ে যায় তার সবকিছু শেষ হয়ে যায় কিচ্ছু বাকি থাকেনা, একখন্ড পোড়ামাটির ভূখণ্ড ছাড়া। বাংলাদেশকেও ওরকম পোড়ামাটির ভূখণ্ড বানিয়ে দিয়েছিলো পাকিস্তানিরা। তারা যখন বুঝতে পেরেছিলো তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত তখন তারা প্লান করল দেশ যদি স্বাধীনও হয় কখনো যেন মাথা তুলে দাড়াতে না পারে এভাবে তারা বাংলাদেশকে একাকার করে ফেলেছিলো। রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট কিছুই ছিলোনা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার ছিলো শুন্য, গুদামগুলো ছিল শুন্য, স্কুল-কলেজ সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছিল। এখন তো অনেক ধনী দেশ আছে যাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যায়। সেসময় কি পৃথিবীতে এমন অর্থসম্পদশালী দেশ ছিলোনা। আমাদের পাশে তারা এসে দাঁড়ায়নায়। আমরা সে আর্থিক সাহায্য পাইনাই। সেইঅবস্থা থেকে শুণ্য হাতে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশের আমুল পরিবর্তন করে তাক লাগিয়ে দেয় গোটা বিশ্বকে। নয় মাসের মধ্যে সংবিধান হল। আমাদের সিভিল সার্ভিস সাজিয়েছিল। পুলিশ বাহিনী, সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী গঠন করেছেন। আমাদের আদালতকে ঢেলে সাজিয়েছেন। একটা পূর্নাঙ রাষ্ট্রের যতগুলো অর্জন আছে, বঙ্গবন্ধু কিন্তু তৈরি করে গিয়েছিলেন। আজকে যে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেখি আকাশে, যার মাধ্যমে পুরো বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছি।
