মোঃ নাজমুল হক
স্টাফ রিপোর্টার:
নওগাঁ নিয়ামতপুরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে মারা যাওয়া আব্দুল লতিফ (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রবিবার ২৪ জুলাই সকালে থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত আব্দুল লতিফ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। তাঁর দেড় বছরের রাব্বি নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফের সাথে স্ত্রী বিথীর সাংসারিক বিষয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় ৬ মাস পূর্বে বাবার বাড়ি শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের দারাজপুর গ্রামে চলে যায়। গতকাল শনিবার রাতে নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে মায়ের দরজায় ডাকাডাকি শুরু করলে সকলে বের হয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছেন বলে জানান তিনি। এরপর সিএনজি যোগে মেডিকেলে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে আব্দুল লতিফ মারা যান।
আব্দুল লতিফের বড় ভাই শাহীন আলী বলেন, ৩ বছর আগে আমার ছোট ভাইয়ের সাথে শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলামের মেয়ে বীথি খাতুনের (২১) বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুখেই কাটছিলো তাদের সংসার। গত ৬ মাস পূর্বে আমার ছোট ভাই স্ত্রী-সন্তানসহ তার শশুর বাড়িতে চলে যায়। ছোট ভাই সেখানে থাকবে বলে আমাদের জানায়। শশুর বাড়িতে দুইটি গরু কিনে দিয়েছিল ছোট ভাই। ছোট ভাইয়ের শশুর ঋণগ্রস্ত থাকায় ছোট ভাইয়ের শশুর গরু দুটি বিক্রি করে ঢাকাতে চলে যায় গার্মেন্টসে কাজ করবে বলে। আমার ছোট ভাই কিছুদিন আগে স্ত্রীর সাথে গন্ডগোল করে বাড়িতে ফিরে এসে খুব দুশ্চিন্তায় ছিল। দুশ্চিন্তার কারণেই হয়তো গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
নিয়ামতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
