মনা,যশোর জেলার প্রতিনিধিঃ
আপনজন যার চলে যায় সেই বোঝে সে যে কি ব্যথা। আমার গর্ভধারিণী মা জননী আর নেই। আজ বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের সময় এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আমাদেরকে দুখের সাগরে ভাসিয়ে এতিম করে দিয়ে চলে গেলেন আমার গর্ভধারিণী মা জননী। ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার সময় কথাগুলি ফেসবুকে লিখেছিলেন দেশ বরেণ্য শিল্পপতি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও শেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে যশোরের শার্শার এমপি আলহাজ¦ শেখ আফিল উদ্দিন।
এসময় তিনি পরম করুণাময় আল্লার নিকট ফরিয়াদ করে লিখেছিলেন, হে মহানপাক রাব্বুল আলামিন, আমার মা জননীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
এসময় তিনি তার কথায় আরো লিখেছিলেন, ও মা! মাগো! কি এমন তাড়া ছিল যে তুমি তোমার আফিলকে এতিম করে চলে গেলে! ও মা! তুমি যে ছিলে আমার জীবন প্রদীপ। আমার জীবনের সেই প্রদীপটা আজ নিভে গেল। আমার চারিদিক আজ কালো অন্ধকারে ছেঁয়ে গেছে। ও মা! একটি বার তোমার এই ছেলেটিকে তোমার বুকে জড়িয়ে নাও না মা। একটিবার তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে খুব মন চাইছে মা-গো! তুমি কেন এত অভিমানী? কেন আমাকে একা করে এই অ-বেলায় চলে গেলে মা।
এমন বুক ভরা আকূতি নিয়ে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন। মুহুর্তে লেখার সাথে সাথে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ যশোর জেলাব্যাপী বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা শার্শা’র আকাশ বাতাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। শোকের ছায়া নেমে আসে অসংখ্য মানুষের প্রিয় মা জননী সকিনা খাতুনের জন্য।
তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আকিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী। তিনি ছিলেন একজন রতœাগর্ভা মা জননী। যার হৃদয় ছিলো আকাশ ছোঁয়া, ভালবাসা ছিলো সীমাহীন। যার ভালবাসায় প্রাণ জুড়িয়েছেন শেখ আকিজ উদ্দিনের বিরতিহীন জীবনাবশন পর্যন্ত অসংখ্য শিল্পপতি, কর্মকর্তা, কর্মচারিসহ নিজ সন্তান ও সন্তানদের অসংখ্য গ্রুপ এবং শেখ আফিল উদ্দিন এমপির রাজনীতি ও ব্যবসায়ীক জীবনের দূরের-কাছের পরিচিত জনরা। আজ আর তিনি নেই, রয়েগেছে তার অসংখ্য গুণের কথা। সোমবার বিকেলে তার নিথর দেহ শার্শার মাটিতে হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছালে চারিদিকে স্তব্ধ হয়ে যায়। সন্তানদের আকূতি ভরা কান্নার কথায় অসংখ্য মানুষের চোখের কোণে কচু পাতায় পানির মতো টলমল করছিল।
বিশাল মানুষের ঢলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে মরহুমার দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মাত্র কয়েক ঘন্টার সংবাদে মাঠের সর্বপ্রান্তে মানুষ কানায় কানায় ভরে যায়।
এসময় মরহুমার জীবনাবশন পর্যন্ত স্মৃতিচারণ করেন মরহুমা ও মরহুম শেখ আকিজ উদ্দিনের জৈষ্ঠ ছেলে আদ্ব-দীন হাসপাতালসহ মায়ের নামে অলংকৃত সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ড. শেখ মহিউদ্দিন। স্মৃতিচারণ করেন তাদের কনিষ্ঠ ছেলে শার্শার এমপি ও আফিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ¦ শেখ আফিল উদ্দিন। স্মৃতিচারণ করেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, ঝিকরগাছার সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলামসহ শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু।
এসময় সন্তানরা তাদের মা জননীর জন্য সকলের কাছে দোয়া চান।
কথা হয় জানাযায় আগ¦ত অনেকের সাথে। বলেন, এই মায়ার দুনিয়া ছেড়ে অসংখ্য সন্তানদের কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন মমতাময়ী যশোরের শার্শার এমপি আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিনের মা ও দেশ বরেণ্য শিল্পপতি আকিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী। তিনি ছিলেন মাটির মানুষ। তার সান্নিধ্য যারা পেয়েছেন তারা কেউই এমন মা’কে ভুলতে পারবেনা। তিনি ছিলেন মায়ার মানুষ। এমপি’র কাছে কেউ এলে তিনি সন্তান চোখে তাকে আদর করতেন। নিজ হাতে খাওয়াতেন। মেহমানদারিতে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় আপনজন। মহান দয়ালু আল্লাহ যেনো অসংখ্য মানুষের ভালবাসার এই মা জননীকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করে এমনটি দোয়া করেন তারা।
একেক করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নারী নেতৃত্বরা বিদায়ের বেলায় প্রিয় মা’জননীর মলিন মুখখানি দর্শণ করেন। আস্তে আস্তে চারিদিক অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে থাকে। পরে হেলিকপ্টারযোগে নিথর দেহখানি নিয়ে রওয়ানা হয় খুলনার ফুলতলা এলাকার বেজেরডাঙ্গা গ্রামে। সেখানে ৩য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়ে জীবন সঙ্গী মরহুম শেখ আকিজ উদ্দিনের কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হউন সদালাপী মিষ্টভাষী মরহুমা সকিনা খাতুন।
উল্লেখ্য, মরহুমার ১ম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় নিজ সন্তানের প্রতিষ্ঠিত ঢাকার মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গণে।
শার্শা’র শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া, জানাযা ও শোক সন্তোপ্ত পরিবারের সাথে সমবেদনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রেন্টু চাকলাদার, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, নাভারন সার্কেলের সিনিয়র এএসপি জুয়েল ইমরান, শার্শা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র পাল, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার নির্বাহি সম্পাদক মাহবুব আলম লাভলু, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ,
কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদুজ্জামান, যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারণ সম্পাদক ইকবল হোসেন রাসেল, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ¦ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ নাসির উদ্দিন, শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন তোতা, বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, উলাশীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আয়নাল হক, বাগ আঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল, কায়বার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু, গোপার ইউপি চেয়ারম্যান তবিবুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফফার সরদার, সাবেক চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান,
লক্ষণপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, নিজামপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ, ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মুকুল, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ বজলুর রহমান, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আহাদুজ্জামান বকুল, সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, অপুসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের সকল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সকল শ্রেণীর নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের মানুষ ।
