রেজাউল করিম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বগুড়ায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আলাউদ্দিন (৩৬)। তিনি ২০১২ সালে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছিলেন।মামলার এজাহারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন ৪নং আসামি।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) বগুড়ার মোকামতলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। আলাউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার ছোট ধাপ গ্রামে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর রাতে মোকামতলা বন্দরে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
ঈদ উদযাপন করতে গত ৭ জুলাই রাতে স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান আলাউদ্দিন। আলাউদ্দিন টেকনাফে এনজিও ব্র্যাকে চাকরি করতেন।
আলাউদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। ২০১২ সালে কোনো কারণ ছাড়াই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে বিশ্বজিৎকে।বাঁচার জন্য দৌড় দিলে তিনি শাখারীবাজারের রাস্তার মুখে পড়ে যান। রিকশাচালক রিপন তাঁকে রিকশায় তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বিশ্বজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় বিশ্বজিৎ লক্ষ্মীবাজারের বাসা থেকে শাখারীবাজারে নিজের দোকানে যাচ্ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্বজিতের ভাই উত্তম দাস ঢাকার সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ চার্জশিট দাখিল করলে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড দেওয়া হয়। ২১ জন আসামির মধ্যে ৮ জন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও অপর ১৩ জন পলাতক ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে আপিল করা হলে হাইকোর্ট ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন ও ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা এবং ২ জনকে খালাস দেন।
