রহিমা খাতুন
নিয়ামতপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গর্ভবতী স্ত্রীকে নির্যাতন ও লাথি মেরে হত্যার অভিযোগে নিজ স্বামী সগেন চন্দ্র বর্মন, ভাসুর মংলু বর্মন, দেবর হরিপদ বর্মন, ননদ অঞ্জলী বর্মন ও ভাসুরের ছেলে শ্রী নয়নের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আরতী রানী(৩৩) নামের এক নারী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মদনাকান্দর গ্রামে। আরতী রানী মদনাকান্দর গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্রনাথ বর্মনের মেয়ে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৭ এপ্রিল ২০০২ সালে হিন্দু (সনাতন) ধর্ম মতে আরতী রানীর সাথে একই গ্রামের অনিল বর্মনের ছেলে সগেন চন্দ্র বর্মনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণের গহনা ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার এবং পণ বাবদ নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেয় মেয়ের পরিবার। আরতী রানীর বাবা-মার মৃত্যুর পর শশুরালয়ে বসবাস শুরু করে সগেন চন্দ্র বর্মন। তাদের তৃষা বর্মন (১১) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সংসারে অভাব অনটন দেখা দেওয়ায় সগেন চন্দ্র বর্মন আবারও ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। আরতী রানী যৌতুকের টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে গত ২৩ জুন বাঁকি আসামিদের সহযোগিতায় অন্তস্বর্তা আরতী রানীকে মারধর করে স্বামী সগেন চন্দ্র বর্মন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাবার বাড়ি নিয়ে যায়। পরের দিন ২৪ জুন পেটের ব্যথা উঠলে আত্মীয় স্বজনরা আরতী রানীকে ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা চেষ্টা করেও পেটের সন্তানকে বাঁচাতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে মিমাংসা না হলে, গত ১৪ জুলাই নওগাঁ আদালতে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগী। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়ামতপুর থানাকে এজাহার হিসেবে নিতে বলে। নিয়ামতপুর থানায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগপত্রটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করে। আরতী রানী বলেন, বাবার বাড়িতে থাকার পরও এ ধরনের নির্যাতন করে আসছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। নিয়ামতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
