নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বড় পশু হাটগুলোর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া পশু হাট একটি। নওগাঁ জেলাসহ আশেপাশের জেলার গ্রামের কিছু ছোট ছোট খামারীরা কুরবানির ঈদের আগমুহূর্তে তারা তাদের পশু গুলোকে খাওয়ায়ে মোটাতাজা করে গ্রামের হাটে নিয়ে আসেন অনেক আশা করে। স্বপ্ন দেখেন আশা পূরণের। কিন্তু খামারিদের সেই স্বপ্ন হাটে এসেই নিমেষেই শেষ। কারণ, হাটে এসে দেখেন গরু নিয়ে এসেছে অনেক খামরিরা, এছাড়াও গ্রামের অনেকেই বাড়ির গরু হাটে তুলছেন। কিন্তু হাটে বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা কম। ফলে গরু দাম যায়। এমনটাই বলেছিলেন নওগাঁ থেকে আসা খামারি নাসিরউদ্দিনের ছেলে আমজাদ আলী। তিনি জানান, আমি ২২টি গরু গত ফেব্রুয়ারীত কিনে ছিলাম এবং তার মধ্যে ৮টি গরু নিয়ে এসেছি। গরু বিক্রি শেষে তিনি আরও বলেন আমার গরু বিক্রি করেছি ঠিকই, তবে আশানুরূপ লাভ হয়নি। সাপাহার থেকে গরু কিনতে আসা চয়েনের ছেলে জাকারিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ, গরু কেনা-বেচা করে পরিবার চালাই। হাটে এসে গরুর ছাড়পত্রের মূল্য শুনে তো আমরা অবাক। ৫০০ টাকার ছাড়পত্র এতো দিন ৬০০ টাকা করে নিচ্ছিছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত সপ্তাহে ৬০০ – ৭০০ এবং আজকে ৮০০ টাকা নিয়েছে প্রতি গরুর ছাড়পত্রে। এটা আমাদের গরীবদের প্রতি জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়। এজন্য তিনি সরকারি হস্তক্ষেপ চান। ছাগলের ক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্রটি দেখা যায়। ছাগলের ছাড়পত্রেও নেওয়া হয় ৫০০ টাকা। পরক্ষণে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আলীম উল্লাহ খান। সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরের দিকে ছাতড়া পশুর হাটে অভিযান চালিয়ে পশু হাট ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে এ জরিমানা করেন তিনি। আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলার স্হানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ছাতড়া গরুর হাটে এ অভিযান পরিচালনা করেন। হাট ইজারাদারের পক্ষে আব্দুল মাজেদ বলেন, করোনার প্রভাবে বেশ কিছু হাট আমাদের লোকশান গুনতে হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু বাড়তি হাসিল আদায় করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাটে অভিযান পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হাটে অবস্হানকালীন সময়ে হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান আর বাড়তি হাসিল আদায় করবে না বলে অঙ্গীকার করলেও তা কার্যকর হয়নি। কিন্তু অভিযান পরিচালনার সময়ই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অন্য সব দিকে অতিরিক্তু হারেই হাসিল আদায় করা হয় যা শেষ অবধি চলে। ঈদের হাটে গরু – ছাগল বেচা-কেনা কম হয়েছে বলেও হাট শেষে জানিয়েছেন ইজারাদার কতৃপক্ষ।
