আমের নতুন রাজধানী নামে খ্যাত নওগাঁয় বাহারি সব আমের উৎপাদন হয়ে থাকে। তা নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে মেলার। আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঘাসফুল, মেলায় নানা রং ও বর্ণের নজরকাড়া শতাধিক প্রজাতির সুস্বাদু আমের প্রদর্শনী করা হয়। সঙ্গে ছিল আলোচনা সভাও নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে দুই দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ভারপ্রাপ্ত) উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিহাব রায়হান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাণীর নির্বাহী পরিচাল ফজলুল হক, আম রপ্তানিকারক শামিম হোসেন, কৃষি উদ্যোক্তা ইমরান হেসেন প্রমুখ। ঘাসফুলের সাস্টেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) প্রকল্পের অধীনে জেলার নিয়ামতপুর ও সাপাহারে উপকারভোগী ১৮ জন কৃষি উদ্যোক্তা তাঁদের বাগানে উৎপাদিত বাহারি ও সুস্বাদু আম মেলায় প্রদর্শন করেন। দেশি প্রজাতির আমের মধ্যে আম্রপালি, ল্যাংড়া, বারি-৪, কাটিমন, ফজলী, হাড়িভাঙা, শ্রাবণী, বারি-১৩, গৌড়মতি, আশ্বিনা, তরফদার ভোগ, মল্লিকা, সুরমা ফজলী, নাক ফজলী, হিমসাগর, কুমরাজালি, এসইপি-২, ইন্ডিয়ান চোষা এবং বিদেশি জাতের আমের মধ্যে মিয়াজাকি, আমেরিকান পালমার, ব্যানানা সহ প্রায় ১০০ প্রজাতির আম দেখা যায়। এর মধ্যে প্রায় দুই কেজি ওজনের দেশি প্রজাতির তরফদার ভোগ আমও দেখা যায়। ঘাসফুলের এসইপি প্রকল্পের পরিবেশ কর্মকর্তা মুসাব্বির আহমেদ বলেন, ঘাসফুল সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহযোগিতায় নওগাঁর নিয়ামতপুর ও সাপাহারে আট শতাধিক কৃষককে নিরাপদ আম উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এছাড়া এসব কৃষকের উৎপাদিত আম দেশে ও বিদেশে বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করে আসছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমের সাথে নওগাঁবাসীর নাড়ির সম্পর্ক। বর্তমানে নওগাঁর অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে আমের ভূমিকা ব্যাপক। নওগাঁয় উৎপাদিত আমের ৯৫ শতাংশ আমই রপ্তানি উপযোগী। আম রপ্তানির বাধা কাটাতে পারলে শুধু নওগাঁ নয় আম হতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারি কৃষিপন্য। আরো বলেন, নওগাঁকে এগিয়ে নিতে সবাই এগিয়ে আসুন সহযোগিতা করুন তাহলে নওগাঁর আম বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে নওগাঁ হবে আমের মডেল।
