খান মাহাদী স্টাফ রিপোর্টার
-সাংবাদিক তো সংবাদ প্রকাশ করবে এটা তাদের পেশাগত দায়িত্ব, যখনই সংবাদটি কারো বিরুদ্ধে হয়ে যায় তার কাছে সাংবাদিক খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু সে একবার ভাবে না ভুলটা কি সাংবাদিকদের না তার কাজের। সাংবাদিকতা পেশা এমনিতেই চ্যালেঞ্জের, তার ওপর আবার মফস্বল সাংবাদিকতা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় সাংবাদিকতায়। বিভিন্ন প্রকার হুমকি, মামলা-হামলার শিকার হতে হয় যে পেশায় সেটাই হলো সাংবাদিকতা। তবে ঝুঁকি থাকলেও অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা এটা। সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ বা আয়না বলা হয়। তবে হলুদ সাংবাদিকদের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। এরা প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মানহানি করে থাকে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। একটা সংবাদ তৈরি করতে হলে ছুটতে হয় একেবারে তৃণমূলে। অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় মফস্বল সাংবাদিকদের।
- খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, কুসংস্কার, একঘরে করে রাখা, দোররা মারা, ফতোয়াবাজি, বলাৎকার, চাঁদাবাজি, অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি, অশিক্ষা, অপচিকিৎসা, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, বহুবিয়ে, সহজ-সরল গ্রামের মানুষের সঙ্গে নানান প্রতারণা, জবর দখল, সন্ত্রাস, দলাদলি, অগ্নিকাণ্ড, পাহাড়ধস, সার সংকট, মঙ্গা, নদীভাঙন, বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, ঘূর্ণিঝড়, বিদ্যুতের লোডশেডিং ইত্যাদির শিকার হওয়া মানুষগুলোর পে কথা বলাই প্রমাণ করে মফস্বল সাংবাদিকরা নিজ নিজ সমাজের-জনপদের মুখপাত্র। এসব লিখতে গিয়ে অনেক সময় সুবিধাবাদী-স্বার্থান্ধ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমলার মিথ্যে মামলা আর নির্বিচার হামলার শিকার হন মফস্বল সাংবাদিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা পথ চলেন আর কাজ করেন। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বললেই কারও না কারও বিপে যায় সংবাদ, কারও স্বার্থে লাগে আঘাত। তখন জানে মেরে ফেলার কথাও ভাবেন ওইসব ভদ্রবেশী শয়তানের অনুচরেরা। এ রকম হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলা, বিদ্বেষ-রোষানল, ঝড়-তুফান মাথায় নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন মফস্বল সাংবাদিকরা।
- তবে এভাবে চললে হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য আইন পাস করা উচিত এবং আইনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেননা একতাই বল। একত্রে থাকলে শক্তি পাওয়া যায় এবং প্রতিপক্ষ ভীতচিত্ত অবস্থায় থাকে। দেশে দিন দিন সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন বেড়েই চলেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনো আসামি এখন পর্যন্ত শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়নি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংবাদিকের ওপর হামলা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু এর কোনো বিচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। সরকারের উচিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নজর দেয়া এবং সাংবাদিক নেতাদের উচিত সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা। মফস্বল সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হন। আর এমনিতেই তো মফস্বল সাংবাদিকতা একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। এটা দেশের সব শ্রেণির জনগণই জানে। এক প্রকার যুদ্ধ করেই টিকে থাকতে হয় মফস্বল সাংবাদিকদের।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
