অনলাইন ডেস্ক ॥
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলা। ক্রমেই এই অবস্থার অবনতি ঘটছে। এমতাবস্থায় আগামী রবিবার (১৯ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। একদিকে বন্যা ও অন্যদিকে মাধ্যমিকের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগে আছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা । বন্যার এই পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তারা ।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার কারণে ইতোমধ্যে শুধুমাত্র সিলেট জেলায় প্রায় ৩৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি সিলেটবাসী। মাত্র দুইদিনের ব্যবধানেই সিলেটের ১১টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। দিনে এবং রাতে সমান তালে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অজানা আতঙ্কে সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকার লোকজন। অনেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বন্যা আতঙ্কে।
স্থানীয়দের মতে, গত বন্যায় ২০০৪ সালের সালের বন্যাকে অতিক্রম করেছে। আর এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অবস্থা এতই বেগতিক যে, মানুষ এখন আশ্রয়ও পাচ্ছেন না, বলে জানা গেছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয় কেন্দ্র করা নিয়ে দোলাচলে রয়েছে প্রশাসন। ফলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন বানবাসীরা।
আবহাওয়া অধিদফতর সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিধ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, পুরো জুন মাসে ৮১৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু ১৬ তারিখ পর্যন্ত ৯৪ দশমিক ৮১ শতাংশ অর্থাৎ ৭৭৪ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে। আগামী ২৬ জুন পর্য সিলেটে ভারি বর্ষণ হবে। তাতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
