ঢাকাMonday , 13 June 2022
  • অন্যান্য

ছেলের দেয়া তথ্যেই লাভলু হত্যার রহস্য উন্মোচন।

Link Copied!

 

মোঃ: মোশারফ হোসেন মনা যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরে ডিম ব্যবসায়ী লাভলু হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ছিনতাইকৃত স্বর্ণের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ গুমে সহায়তা করে তার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রুপন কুমার সরকার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা এলাকার লাভলুর ছেলে সাকিল ও আবদুর রশিদের ছেলে ইসরাইল। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি ওসি রুপন কুমার সরকার জানান, ছিনতাই করা সোনার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই খুন হয়েছেন খোলাডাঙ্গার লাভলু। এ হত্যার সঙ্গে খোলাডাঙ্গার কামরুজ্জামান ওরফে খোড়া কামরুলসহ কয়েকজন জড়িত। কয়েক মাস আগে সোনা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ৬-৭ কেজি সোনা ছিনতাই করে খোড়া কামরুলের একান্ত সহযোগী লাভলুর ছেলে সাকিল ও স্বর্ণকার কবীর হাওলাদার। তাদের সঙ্গে ছিলেন লাভলু নিজেও।

তিনি জানান, ওই সোনা বিক্রি করে প্রতি বৃহস্পতিবার টাকা ভাগাভাগি করতেন তারা। ঠিক তেমনি করে গত বৃহস্পতিবারও ভাগবাটোয়ারার জন্য খোড়া কামরুল ও কবীরের ডাকে কামরুলের বাড়িতে যান লাভলু ও তার ছেলে সাকিল। এর মধ্যে লাভলুর ছেলে ঘরের বাইরে মোবাইলে গেম খেলতে যায়। এ সময় খোড়া কামরুল, কবীর ও রফিকুল লাভলুকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। একপর্যায়ে রাত ১২টায় হঠাৎ গুলির আওয়াজ হয়। সাকিল ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখে লাভলু গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। বুকে গুলি লাগায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই লাভলুর মৃত্যু হয়।

এ সময় কামরুল, তার স্ত্রী, বোন ও ঘটনাস্থলে থাকা কবীর এবং রফিকুল সাকিলকে সান্ত্বনা দেন। সাকিলকে এ সময় অর্থের লোভ দেখিয়ে হত্যাটি ভিন্নখাতে নিতে বলেন। একপর্যায়ে কামরুলের স্ত্রী ও বোন লাভলুর মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। এরপর কামরুলের নির্দেশে কবীর ও রফিকুল মোটরসাইকেলে লাভলুর লাশ নিয়ে বেলতলা আমবাগানের মধ্যে লাভলুর লাশ গুম করে। এ সময় সাকিলকে অস্ত্র দিয়ে তা লুকিয়ে রাখতে বলে কামরুল।

এদিকে শুক্রবার সকালে পুলিশ লাভলুর লাশ উদ্ধার করে। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রথমেই উঠে আসে ওই এলাকার লাভলুর প্রতিপক্ষের জড়িত থাকার বিষয়টি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় লাভলুর ভাই হত্যা মামলার আসামিরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

কয়েক ঘণ্টার মাথায় লাভলুর স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায় নিহত লাভলু হোসেনের ছেলে সাকিল হোসেন ও স্ত্রী সালমাকে ডিবি পুলিশের টিম হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে।

সাকিল হোসেন ঘটনা আড়াল করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। শেষমেশ সাকিল হত্যার কথা স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে এবং সে হত্যার সময় ও লাশ গুম করার ঘটনাস্থলে হত্যাকারীদের সঙ্গে উপস্থিত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে হত্যার কারণসহ বিস্তারিত বিবরণ দেন।

তার স্বীকারোক্তি মতে সাকিলের বাড়ির পাশের সদু পাগলের পুকুর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিভর্তি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একপর্যায়ে সাকিলের তথ্য মোতাবেক খোড়া কামরুলের সহযোগী ইসরাইলকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। রোববার দুপুরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।