ঢাকাFriday , 10 June 2022
  • অন্যান্য

যশোরে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন দুর্দিনের মহিলা লীগের কর্মীরা

Link Copied!

মনা, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ

যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ বঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সদ্য অনুমোদিত যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে ত্যাগী ও রাজনীতিতে সক্রিয় অনেকের স্থান হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়ির কাজের লোকের স্ত্রী এবং বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্যদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন পদবঞ্চিত নেতা–কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পদবঞ্চিত নাসিমা সুলতানা মহুয়া বলেন, গত ২৫ মে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটির সভাপতি লাইজু জামানের গাড়ির চালকের স্ত্রী শিরিন বেগমকে মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক পদ এবং সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎস্না আরা মিলির গৃহপরিচারিকা ফেরদৌসী বেগমকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান করে দেওয়া হয়েছে। অথচ রাজপথের মিছিল, আন্দোলন–সংগ্রাম করা ২৯ নেতা–কর্মীকে কোনো পদ দেওয়া হয়নি। এই কমিটি বাতিল করে নতুন করে জেলা কমিটি ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বিএনপি–জামায়াত পরিবারের সদস্যদের জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সহসভাপতি পদে জেসমিন আরা লাকী, যুগ্ম সম্পাদক দিল আফরোজ ও সালমা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিরা ইয়াসমিন ও নওশীন সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক ফারহীন রহমান, জাকিয়া সুলতানার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া অপরিচিত মুখ হোসনেয়ারা হেনা, ফেরদৌস আরা শরীফ, সালমা ইকবাল হয়েছেন সহসভাপতি। আর রোকেয়া বিশ্বাস সহসভাপতি ও তাঁর মেয়ে রোমানা খাতুন রিক্তা রাজপথে না থেকেও প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২৯ জনের একটি তালিকা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাসিমা সুলতানা বলেন, তাঁরা রাজপথে থাকলেও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদেরকে মূল্যায়ন করেননি। এদের মধ্যে শাহিদা বেগম পূর্বের কমিটির কোষাধ্যক্ষ, রোকেয়া বেগম মহিলা আওয়ামী লীগের শহর শাখার মহিলা সম্পাদিকা, নুরজাহান বেগম উপজেলা শাখার মহিলা সম্পাদিকা ও শহর বানু জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য থাকলেও এবারের অনুমোদিত কমিটিতে তাঁদের ঠাঁই দেওয়া হয়নি। নিজেও পদবঞ্চিত হয়েছেন বলে জানান নাসিমা। কমিটিতে সদস্য পদ পাওয়া শিমু চৌধুরী সম্মেলনে কেঁদে বলেন, ‘দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকেছি। ১৪-১৫ বছর বয়স থেকে রাজনীতি করি। সভাপতি লাইজু জামান ডেকে বলেছিলেন, তোমাকে ভালো জায়গায় রাখা হবে, কিন্তু রাখা হয়নি। তাঁর বাসায় গেলে তাঁর স্বামী বলেন, যে পদ দেওয়া হয়েছে তা নিয়েই থাকতে। তা না হলে মাদকদ্রব্যের সম্রাট বানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। আমাদের নামে নাকি রিপোর্ট খারাপ। তাই ভালো পদ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’ এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যদেরও কাঁদতে দেখা যায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লাইজু জামান বলেন, ‘সম্মেলনে তাঁরা যেসব অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। আমার গাড়ির কোনো চালকের স্ত্রীকে পদ দেওয়া হয়নি। শিমু চৌধুরীর দাবি সহসভাপতি পদ। তাঁকে সেটা না দিয়ে কার্যনির্বাহী সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে। এটাই তাঁর ক্ষোভ। জেলা কমিটির ৯১টি পদ। কিন্তু তাঁর তুলনায় কর্মীর সংখ্যা তো অনেক বেশি। সবাইকে তো আর জেলা কমিটিতে স্থান দেওয়া যায় না। উপজেলা, শহর এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন হবে। সেখানে পদ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁদেরকে ওখানে দেওয়া হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমাতুন নাহারসহ আরও অনেকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।