থানভী হাওলাদার বিশেষ প্রতিনিধি
গতকাল ৭জুন, ২০২২ ইং তারিখে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তিরত সীতাকুণ্ডে অগ্নিদগ্ধের ট্রাজেডির শিকার মানুষদের দেখতে গেলে (গণঅধিকার পরিষদ এর ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক, রাশেদ খাঁনকে) টার্গেট করে ছাত্রলীগের একটি সশস্ত্র গ্রুপ হামলা করে। ছাত্রলীগের হামলার আশংকা বুঝতে পেরে, অহেতুক ঝামেলা এড়াতে জুনায়েদ সাকিসহ গণতন্ত্র মঞ্চের নেতৃবৃন্দ গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগের চেষ্টা করে। তখন ছাত্রলীগের সশস্ত্র গ্রুপ গালিগালাজ করে চিৎকার করতে থাকে, ঐ রাশেদ কই? এরপর গাড়ির ভিতরে দেখে পাঞ্জাবি ধরে টান দেয়। কিন্তু বের করতে পারেনা, এভাবে টানতে টানতে তাহার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে। গাড়ির ভিতরে শক্ত করে ধরে রাখে চট্রগ্রামের ৩ জন নারী সহযোদ্ধা। একপর্যায়ে তারা তাহকে বের করতে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। ইটপাটকেল, পাথর নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির সামনে থাকা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি রক্তাক্ত হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের সশস্ত্র গ্রুপ মারতে মারতে গাড়ি থেকে সকলকে বের করে দিয়ে বলে, আপনারা চলে যান, কাউকে কিছু বলবো না, রাশেদকে আমাদের উপর ছেড়ে দেন, ওকে আজ মেরে ফেলবো, ওর কতবড় সাহস সরকারের সমালোচনা করে। ঐসময় জুনায়েদ শাকি, জিলু খান, ইমরান ইমন, চট্টগ্রামের গণসংহতি আন্দোলনের নেতা রুমিসহ নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের সশস্ত্র গ্রুপকে নিবৃত্ত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ গাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে, রাশেদ খান ৩ জন নারী সহযোদ্ধাকে বেধড়ক মারতে থাকে। তাহাকে টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ করে। তাহার গায়ের উপর ঢাল হয়ে পড়ে ৩ জন নারী সহযোদ্ধা। তারা না থাকলে তিনি হয়তো প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারত না। একপর্যায়ে ধরেই নিয়েছিল, তিনি আর প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবো না। এরপর গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি টান দিলে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গাড়ি ভাঙচুর করতে করতে মেইন গেইটের বাইরে আসে। মেইন গেইট বাইরে এসে আবার হামলা করে, আমাকে গাড়ি থেকে নামাতে চেষ্টা করে। কিন্তু ভাঙা গাড়ি নিয়েই ড্রাইভার টান দেয়। এতে কোন রকম প্রাণে বেঁচে ফেরে। তাহাকে টার্গেট করে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করলে গুরুতর আহত হয় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, জেএসডির কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক শহিউদ্দিন মোহাম্মদ স্বপন, গণঅধিকার পরিষদ এর যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জিলু খান, ছাত্র অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় নেতা তৌহিদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ইমরান ইমন, গণ অধিকার পরিষদ এর নেত্রী ডলি, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদের ২০ জন স্থানীয় নেতাকর্মী, গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ গণতন্ত্র মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। প্রচণ্ড আক্রমণের শিকার হয়েও কোথাও এখনো পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে পারেনি। কারণ ছাত্রলীগ সশস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন পয়েন্ট পাহারা দিচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। হামলাকারীরা হামলার সময় জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে হামলা করেছে। কেউ কেউ বলছিলো, হাইকমান্ডের নির্দেশ, ওরে আজ ছাড়া যাবেনা। এমতাবস্থায় আমি জীবননাশের আশংকা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি। উল্লেখ্য আমাদের উপর হামলার সময় অসংখ্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলো। তাদের কাছে নিরাপত্তা চাইলেও তারা এগিয়ে আসেনি। বরং একজন পুলিশ সদস্য গাড়ির গেইট খুলে দিয়ে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে। আমাদের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার কার কাছে দাবি করবো? একমাত্র আল্লাহর রহমতে প্রাণ নিয়ে ফিরেছি। তিনি বলেন তাদের হিংস্র রুপ দেখে একপর্যায়ে বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এই বর্বরতার মধ্যে কিভাবে বেঁচে আছি সেটি বলতে পারবো না। গণঅধিকার পরিষদ গঠিত হওয়ার পর থেকে, আমরা সারাদেশে যাখানে যাই, সেখানেই আমাদের উপর হামলা হচ্ছে। আমাদের হত্যা করতে বারবার চেষ্টা করছে। দেশবাসীর উদ্দেশ্য বলতে চাই, আমরা মারা গেলেও আপনারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছাড়বেন না। লড়াই সংগ্রাম, রক্তের বিনিময়ে এদেশের ১৮ কোটি মানুষকে এই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের করল থেকে রক্ষা করতে হবে।
