ঢাকাTuesday , 7 June 2022
  • অন্যান্য

উজিরপুর শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন: নির্বিকার নির্বাচন কমিশন

admin
June 7, 2022 10:09 pm
Link Copied!

 উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ‘ফ্রি স্টাইলে’ চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে পোস্টারিং কিংবা মাইকিং সব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং অফিসার সংশ্লিষ্টরা যেন এক রকম নির্বিকার। গণসংযোগের দশ দিন পেরিয় গেলেও নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং অফিসার তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। তাদের এমন ভূমিকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনে ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যদিও এসব দেখার জন্য ইউনিয়নে ১ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের তেমন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তবে প্রার্থীদের দাবি তারা আচরণবিধি মেনেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে সামনে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এ পর্যন্ত ২টি অভিযোগ করেছেন ,ইউপি সদস্য প্রার্থীরা। আরও জানা গেছে, ২টি অভিযোগের তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত আচরণ বিধি লংঘনের দায়ে তেমন কোনো কঠোর শাস্তির উদ্যোগ নেয়নি নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং অফিসার। উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং অফিসার মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ শেখ বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন ভালোভাবেই হচ্ছে। তবুও কিছু জায়গায় লংঘনের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই তা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, আর তা জানার পর ব্যবস্থা নিচ্ছি না এমন অভিযোগ সত্য নয়। তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। তিনি বলেন, কেউ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করলে এর দায়-দায়িত্ব কমিশন নিরূপণ করবে। আচরণবিধির ৭-এর ‘খ’ ধারায় রয়েছে, কোনো প্রার্থী পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা আগে তাহার স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। যাতে ওই স্থানে চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে চলছে তার উল্টো। প্রতিদিনই ইউপি সদস্য প্রার্থী গণসংযোগকালে একাধিক পথসভা করছেন। রাস্তা বন্ধ করে এসব পথসভা করায় আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। কিন্তু এসব দেখতে নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। আচরণবিধির ২০-এ বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিধিও মানছেন না প্রার্থীরা। নামাজের শেষে প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীই মসজিদেরর ভেতরে প্রচার চালান। ভোটারদের সঙ্গে কোলাকুলিসহ তাদের কাছে ভোট চান। আচরণবিধিতে দুপুর ২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ আছে। শুধু তাই নয়, রাত আটটার পর কোনো প্রার্থী গণসংযোগও চালাতে পারবেন না। কিন্তু ইউনিয়নের অনেক স্থানে দেখা যাচ্ছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইক বাজানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রচারও চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়া প্রচারে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও তাও মানছেন না অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্য বলেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কোনোরকম আচরণবিধি লঙ্ঘনের অবকাশ নেই। নেতাকর্মী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে বলে দিয়েছি, তারা যেন নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।