তিমির বনিক,ব্যুরো প্রধান সিলেট
: সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজারে চলতি মৌসুমে লিচুর দারুণ ফলন হয়েছে। বাগানের গাছে-গাছে ঝুলছে রসালো লিচু। এ মৌসুমে লিচু বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করবেন বলে জানিয়েছেন এ এলাকার একাধিক লিচু চাষি। ছাতক-দোয়ারাবাজারের লিচুর সিলেট ও সুনামগঞ্জে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত লিচু ছাতক-দোয়ারাবাজারের মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ছাতকের বিভিন্ন হাটে কয়েক লাখ টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউপির মানিকপুর, গোদাবাড়ী ও দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া,পরমেশ্বরীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হয়। এখানে উৎপাদিত লিচু আকারে ছোট হলেও খুবই মিষ্টি। লিচু চাষি মানিকপুর গ্রামের আরব আলী ও গোদাবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির জানান, লিচু চাষের সাথে জড়িয়ে এখানের অর্ধশত চাষি এখন স্বাবলম্বী। ছাতক শহর থেকে সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার পথ পেরিয়ে টিলাবেষ্টিত এলাকায় চৌমুহনী বাজার ও লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত মানিকপুর গ্রাম। একটু এগোলেই দোয়ারাবাজারের লামাসানিয়া গ্রামের প্রতিটি বাড়ির বাগানে দেশীয় জাতের পাকা লিচুর ছড়া গাছে গাছে ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে গৌরীপুরের জমিদার হরিপদ রায় চৌধুরী ও তার ভাই শান্তিপদ রায় চৌধুরীর কাছারিবাড়ি ছিল মানিকপুর গ্রামে। এ কাছারি বাড়িতে জমিদারের লোকজন কয়েকটি লিচুগাছ রোপণ করেছিলেন। শতবর্ষী তিনটি লিচু গাছ এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাছারিবাড়িতে। ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান ও দোয়ারাবাজার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, লিচু চাষিদের পরামর্শ ও অনেককে লিচু চাষে উদ্যোগী করা হয়েছে। টিলাবেষ্টিত এ অঞ্চল লিচু চাষের উপযোগী। বাগান করতে আগ্রহীদের সরকারি সব সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানান এ দুই কর্মকর্তা।
