ঢাকাTuesday , 21 February 2023
  • অন্যান্য

৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ৩৪ বছর আগে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ভাষা সম্পর্কে হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ-

Link Copied!

এস কে অজিবর রহমান সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি নিউজ টাইম বিডি।।।
❝এ কাল পর্যন্ত মাতৃভাষার কূটতর্ক লইয়া সকলেই ব্যস্ত ছিলেন। উর্দ্দু আমাদের মাতৃভাষা মনে করিয়া বঙ্গ-সাহিত্যের পরিপুষ্টির জন্য কেহ অগ্রসর হন নাই। বঙ্গ-ব্যবচ্ছেদ সে তর্ক মিটাইয়া দিয়াছে। সকলেই বুঝিতে পারিয়াছেন যে, বঙ্গীয় মুসলমান সমাজের উন্নতি সাধন করিতে হইলে বঙ্গভাষায় সাহিত্য রচনা করা আবশ্যক। বঙ্গভাষা বলিলে একটী অবিচ্ছিন্ন ভাষা বুঝিতে হইবে। কেহ কেহ বলেন যে, হিন্দু ও মুসলমানদিগের জন্য স্বতন্ত্র ভাষা, আবার কেহ কেহ বলেন পশ্চিম ও পূর্ব বঙ্গের জন্যও স্বতন্ত্র ভাষা হওয়া আবশ্যক। বঙ্গের ব্যবচ্ছেদ হইয়াছে বটে, কিন্তু বঙ্গভাষার ব্যবচ্ছেদ হয় নাই। জাতি ও বর্ণভেদ অনুসারে ভাষার ভেদ হওয়া অযৌক্তিক। ভাষার যতই ভেদ হইবে, শ্রেণীগত পার্থক্য ততই বৃদ্ধি পাইবে, জাতীয় জীবনের ততই লোপ হইবে, সাহিত্যের ততই অবনতি ঘটিবে❞

একই বক্তব্যে তিনি আহবান জানালেন-
❝ভাই সকল! হিন্দু মুসলমানী দ্বন্দ্ব আজ হইতে ভুলিয়া যাও; ‘হিন্দু-বাঙ্গালা’ ‘মুসলমানী বাঙ্গালা’ এই পার্থক্যবোধক শব্দগুলি অভিধান হইতে উঠাইয়া দাও; উভয়ের সাহায্যে বঙ্গভাষার আয়ত্ত বৃদ্ধি কর এবং ভাষার উত্তরোত্তর উন্নতি দ্বারা দেশের মঙ্গল সাদন কর। আমিত্ব ছাড়িয়া দাও; এক মনে এক প্রাণে প্রেমময়ের আশ্রয় গ্রহণ কর এবং বিশুদ্ধ প্রেম ও ভক্তি লইয়া জাতিনির্ব্বিশেষে বঙ্গভাষার উন্নতি সাধন কর❞
[তথ্যসূত্র: বঙ্গভাষা ও মুসলমান সাহিত্য (১৯১৮) খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা]

বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, বাংলা ভাষার জন্য যারা বুদ্ধিভিত্তিক আন্দোলন গড়েছেন, আমাদের ভাষা দিবসকে যারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা পরিবৃদ্ধি করেছেন সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।