শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
শ্যামনগরে রাস্তার পাশের গাছে গাছে পেরেক বিদ্ধ করে অথবা ধাতব তার দিয়ে ঝুলানো হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড।
গাছ মানব জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গাছ আমাদের উপকার করে গেলেও আমরা গাছের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নিষ্ঠুর আচরণ করে থাকি। শুধু তাই নয়, গাছের গায়ে পেরেক বা ধাতব তার দিয়ে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড লাগানো চলছে শ্যামনগরের সর্বত্র। গাছেরও যে প্রাণ আছে তা আমরা ভুলে যাচ্ছি । ফলে গাছে গাছে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে শ্যামনগরে।
মানবসভ্যতার প্রয়োজনেই গাছকে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে দেওয়া উচিত। গাছের বুকে পেরেক ঠঁকে শুধু যে সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ড লাগানো হচ্ছে তা নয়, লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণের পরিচিতি, নির্বাচনি পোস্টার, সমাবেশের আমন্ত্রণপত্র, জাতীয় নেতানেত্রীদের আগমনের শুভেচ্ছা, বিশেষ দিবসের শুভেচ্ছা, পুজো ও নববর্ষের শুভেচ্ছাও।প্রায় সব এলাকাতেই গাছে গাছে পেরেক ঠুকে বা তারদিয়ে পেচিয়ে লাগানো হয় হরেক রকমের চটকদার বিজ্ঞাপন। শ্যামনগর নগর অঞ্চলের গাছগুলো যেন একেকটা জীবন্ত বিজ্ঞাপন বোর্ড।
গাছের গায়ে ধাতব তার পেচিয়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড ব্যর্থ হচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি।সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ঘটতে পারে চরম দুর্ঘটনা।ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবস্থান ও মান প্রচারের জন্য বেছে নেয় এমন এক অদ্ভুত পদ্ধতিকে। একেকটি গাছকে চিহ্নিত করে নির্দ্বিধায় পেরেক ঠুকে অথবা ধাতব তার দিয়ে শরীর ক্ষত করে প্রচার মাধ্যমের সহায়ক পন্থা হিসেবে লাগিয়ে দিচ্ছে রংবেরঙের বিচিত্র সব বিজ্ঞাপন।
তবে গাছে পেরেক ঠুকে বা তার পেচিয়ে সাইনবোর্ড সাঁটানোর ব্যাপারে আইনের প্রয়োগ মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় আমাদের জনসচেতনতা। দেশের সাধারণ মানুষকে গাছে পেরেক বা লোহা ঠুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের খারাপ দিক বিষয়ে সচেতন করা গেলে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ত না। এ বিষয়ে সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিক ভূমিকা রাখতে পারেন।
