গোমস্তাপুর(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনের জন্য নিরাপদ খাদ্য খুব জরুরী। বর্তমানে বাজারে মাছ মাংস থেকে শুরু করে শাকসবজি পর্যন্ত কেমিক্যালে ভরা।এসব খাদ্য খেয়ে মানুষজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নিরাপদ সবজি মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে বিশাল কৃষক বাহিনী নিয়ে শুরু হয়েছে গোমস্তাপুর উপজেলার কৃষি অধিদপ্তরের পথচলা। চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১’শ একর জমিতে কীটনাশক মুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনের কাজে হাত দেয়া হয়েছে।এলক্ষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ উপযোগী কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
এপ্রসঙ্গে উপজেলার কৃষি বিভাগের এসএপিপিও সেরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের তিনটি স্থানে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় ২০টি গ্ৰুপে ৫০০ জন কৃষককে নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। কৃষকদেরকে গ্ৰুপ ভাগ করে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইপিএম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এলাকার অন্য কৃষকেরাও ধারণা পাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত ও নিরাপদ শাকসবজি সহজেই বাজারজাত করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের প্রকল্পে কাজ করা কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান,এ পদ্ধতিতে আমরা বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারছি এবং বাজারে আশানুরূপ দামও পাচ্ছি।তারা এ উদ্যোগকে মানুষের জন্য উপকারী বলে কৃষি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা কৃষি বিভাগের আমন্ত্রণে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ইতিমধ্যেই প্রকল্পগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করে এসেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভির আহমেদ সরকার জানান, সারাদেশের মাত্র ২০ টি উপজেলায় এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে।যখন বাজারে চলছে ভাজাল সবজির রমরমা অবস্থা তখন আমাদের উৎপাদিত সবজি সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।আমরা অত্র উসজেলায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চাই।
